বিশেষ প্রতিনিধি ::
চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ১১ কোটি টাকার একটি জায়গা কিনতে সরকারের ১০৪ কোটি খরচ করেছিলেন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইয়ুব খান। এই অভিযোগে তদন্ত করে চাঞ্চল্যকর দূর্নীতির সত্যতা পায় দুদক। এই দূর্নীতির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন দুদকের ( পরবর্তীতে) চাকরিচ্যুত উপ পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জমি কেনায় দুর্নীতির ২৭ কোটি টাকা বেশ কয়েকটি বস্তায় ভরে হোটেল ওয়েণ পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলটির লিফটে বস্তা তোলার সময় টাকার অস্তিত্ব বুঝে ফেলে হোটেলটির এক রুম বয়। সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আব্দুস সালামের মালিকানাধীন এই হোটেলে লুটপাটের টাকা ভাগ করা হয়েছিলো ।
সুত্রমতে, বস্তা ভর্তি টাকা থেকে দুই বান্ডিল চুরি করে পালিয়ে যায় হোটেণটির সেই রুম বয়। পুলিশের কাছে অভিযোগ করা ছাড়াই সেই রুম বয়কে আটক করে আনা হয়েছিলো।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি ক্রয়নীতি উপেক্ষা করে ২০১৭ সালে ১১ কোটি টাকার জমি ১০৪ কোটি টাকায় কিনে নেয় কেজিডিসিএল। অধিগ্রহণ পদ্ধতিতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমিটি কিনলে খরচ হতো ৩৩ কোটি টাকা। ওই সময় কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন আইয়ুব খান। জমি কেনার পর তার বিরুদ্ধে মোটা অংকের ‘কমিশন বাণিজ্যের’ অভিযোগ ওঠে। সেই টাকার ২৭ কোটি বস্তায় করে নিয়ে যাওয়া হয় হোটেল ওয়েলপার্কে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইয়ুব খান আলোচনায় আসেন তার বিরুদ্ধে করা মো. শরীফের এক জিডির সূত্র ধরে। জিডিতে শরীফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, চাকরিচ্যুত করার ১৬ দিন আগে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার বাসায় গিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদ্য চাকরিচ্যুত উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে বাসায় গিয়ে হুমকি দিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এলেন কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইয়ুব খান।
সম্প্রতি আইয়ুব খান আলোচনায় আসেন তার বিরুদ্ধে করা মো. শরীফের এক জিডির সূত্র ধরে। জিডিতে শরীফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, চাকরিচ্যুত করার ১৬ দিন আগে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার বাসায় গিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
আইয়ুব খানের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। তিনি বর্তমানে অবসরে । এক সময় পেট্রোবাংলার পরিচালকও ছিলেন তিনি।
দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিজ ক্ষমতাবলে ২০-২৫ কোটি টাকা, পরিচালনা পরিষদের অনুমতি নিয়ে ৩০ কোটি টাকা আর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা খরচ করে যন্ত্রাংশ ও সম্পদ কিনতে পারবেন। এর চেয়ে বেশি খরচ করলে একনেকের অনুমতি নিতে হয়। আইয়ুব খান এসব নিয়ম মানেননি। তিনি বোর্ড সদস্যদের অনুমতি নিয়েই জমি কিনতে ১০৪ কোটি টাকা খরচ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় এমন কর্মকাণ্ডে পাশে না থাকায় কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. আবু জাফর এবং উপমহাব্যবস্থাপক আবদুল হক মজুমদারকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণে বাধ্য করেছিলেন আইয়ুব খান।




