আশিয়ানের নজরুলের কান্ড, হাত পা বেঁধে নায়িকাকে নির্যাতন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on print

নিজস্ব প্রতিবেদক :::

হালের আলোচিত ঢাকাই সিনেমার নায়িকা ইশরাত জাহানকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে এপস্টিন কায়দায় টানা দু’ঘন্টা নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া
বিরুদ্ধে । একই সময় নায়িকা ইশরাতের সাথে থাকা
মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনকেও শারীরিক নির্যাতন
ও তার পায়ের নখ তুলে ফেলার দাবি করছেন তিনি।

হালের ঢালিউড বেশ কয়েকটি সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে ইশরাত জাহান যথেষ্ঠ সুনাম অর্জন করেন। পারিবারিক বন্ধন ও দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ এই নারী গসিপ আর সমালোচনার বাইরে ছিলেন দীর্ঘদিন। তবে এবার খোদ এই নায়িকার অভিযোগ, তাকে গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত টানা দু’ঘন্টা হাত ও পা বেঁধে পেটানো, কুসুম গরম কফি গায়ে ঢেলে দেয়া, অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ ও সব শেষে কফিতে নেশাজাত/বিষাক্ত দ্রবণ মিশিয়ে পান করিয়েছেন ভূমি দস্যূতায় অভিযুক্ত আশিয়ান গ্রুপের আলোচিত ব্যবসায়ী নজরুল।

তিনি এসময় আরো দাবি করেন, তার সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনকেও নির্যাতন করেন নজরুলের অনুচররা। তুলে ফেলে পায়ের নখ।

ঘটনার বর্ণানা দিতে গিয়ে ইশরাত বলেন, বছর খানেক আগের পরিচিত ইমন নামের একজন কো-অর্ডিনেটরের ফোনের মাধ্যমে এক বছরের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন চিত্রের মডেল হওয়ার অফার করা হয় তাকে। এ সময় ইমন জানায় ২০ লাখ টাকার এই কাজে সে ইশরাতকে দেবে ১৭ লাখ। তবে ডিল ফাইনাল বা চুক্তি করতে যেতে হবে সেই কোম্পানীতে। এ কথার সূত্র ধরে ইশরাত জাহানকে নিয়ে ২৪ জুলাই রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ইশরাতের বুকিং করা উবারে চড়ে রাজধানীর ৩০০ ফিটের পাশের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছান তারা।

ইশরাত জানান, পৌঁছেই খটকা লাগে তার।

তিনি ইমনকে তার সহকারী ইমনকে প্রশ্ন করেন,“করিডরে ফিংগার প্রিন্ট কেনো?”

জবাবে ইমন জানায়, “যেহেতু মালিক ভিতরে; তাই হয়তো বাড়তি নিরাপত্তা।”

ভেতরে ঢোকার পর দেখা মেলে সেখানে বসে আছেন আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। আশপাশে আছেন তার বিশ্বস্ত অনুচর পলাশ, পিএস মিয়ামিসহ বেশ কয়েকজন।

শুরুতেই সামান্য আলাপচারিতার মাঝেই আসে চা, নাস্তা, কফি, খেজুর বিস্কুট, বলছিলেন ইশরাত । এরপর হঠাৎ করেই নজরুল সাহেব হুঙ্কার দিয়ে উঠেন। ইসরাতকে উদ্দেশ্য করে বলেন “তোরে কত বছর ধইরা খুঁজতাছি। আমি তোরে দুইবার বিয়া করছি। তোর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া না?”

ইশরাতের দাবি, আশিয়ানের চেয়ারম্যান তাকে জেবা তাকিয়া উল্লেখ করে বলেন, “ফকিন্নী তুই আমার কোটি কোটি টাকা খাইছস। এই ইমন রে লইয়া তোর মিরপুরের বাড়ির লাইগগা ৩০ লাখ টেকা দিয়া পর্দা কিনা দিসি।”
জবাবে ইশরাত জানান তার বাড়ি উত্তরবঙ্গে ।

এসময় নজরুল আবার বলেন, “তুই আমার লগে ফাউল করছস। কতদিন কত জাইগা থোন তোরে আমি ধইরা আনসি। তুই আমার থেইকা টেকা লইয়া তোর বিদেশে থাকা নাগররে দিছত। তোর আমারে আবার বিয়া করতে হইবো। এই কথা বলেই ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্প সামনে ফেলেন নজরুল। হাতে তুলে নেন তলোয়ার সদৃশ্য ধারালো অস্ত্র। মুহূর্তে পাল্টে যায় ইশরাতের চেনা জগৎ। সোশ্যাল মিডিয়ার সিনেমাটিক চরিত্র এপস্টাইন চরিত্র যেনো তারই সামনে উপস্থিত। নিজের আতঙ্কিত মুহূর্তের কথা এভাবেই ব্যক্ত করেন তিনি।

ইশরাত বলেন,“এসময় আমি কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমি যতবারই বলছিলাম আমি টাকিয়া না, ততবারই ক্ষেপে যাচ্ছিলেন নজরুল সাহেব। আমার সাথে থাকা ইমন ইশারায় আমাকে তাকিয়ার অভিনয় করতে বলে। বলেন সাদা দলিলে সই করে টিভিসির চুক্তির টাকা নিয়ে বেরিয়ে যেতে। এমন পরিস্থিতিতে আমি বাধ্য হয়েই অন্য একটা ভূয়া নাম সই করে দেই বাঁচার জন্য।”

তবে সই করেও শেষ রক্ষা হয়নি। নজরুল এসময় বাসর রাত করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন- দাবি ভুক্তভোগি ইশরাতের। রুম থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে ইশরাতকে বেড টাইপ সোফায় গিয়ে বসতে তলোয়ার উচিয়ে নির্দেশ দেন নজরুল।

বাসর রাতের চাপ থেকে বাঁচতে পিরিয়ড/মাসিক চলছে উল্লেখ করায় আরো ক্ষেপে যান নজরুল। তাকে তলোয়ার উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে বাধ্য করে সোফায় বসতে।

এরপর রশি বের করে বলেন, “রশি দেখছস? এটা দিয়ে ফাঁসি দেয়। বহু বড় বড় লোককে এটা দিয়ে ফাঁসি দিসি।” বলেই ইশরাতের আই ফোন নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

এসময় মোটা রশি দিয়ে প্রথমে ইশরাতের পা বাঁধে নজরুল। রশি শক্ত করে বাধায় ইসরাত নজরুলকে বলেন, “আমার রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”

এতে আবারো উত্তেজিত হয়ে রামিসার ডান গালে চড় কষান নজরুল। সোফায় চেপে ধরে বেঁধে ফেলেন হাত। উপড়ে উঠে চেপে ধরেন গলা। সোফায় শোয়া অবস্থায় সে দুটো লাঠি নিয়ে আসেন, ইশরাতের দু পায়ের পাতায় মোটা লাঠি দিয়ে লাগাতার মোট ১৪টা বাড়ি দেয় সে। চুল ধরে বসিয়ে ঘাড়ের স্পাইনাল কর্ডের উপরের অংশে ৫ থেকে ৭ বার সজোরে আঘাত করে বলে দাবি ইশরাতের। আঘাত করা হয় উঁরু, পিঠ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে।

নির্যাতনের এ পর্যায়ে উপস্থিত হন নজরুলের নারী পিএস মিয়ামি। নজরুল সেসময় খানিকটা শান্ত হয়ে কফি অর্ডার করলে হাত বাঁধা ইশরাত আপত্তি জানান। তখন নজরুলের নির্দেশে ইশরাতের হাতে কুসুম গরম কফি ঢেলে দেয় মিয়ামি। পরে সেটি পান করতে বাধ্য করা হয় যাতে মেশানো ছিলো নেশাজাত দ্রব্য।

কি করে পালালেন ইশরাত?

ইশরাত জানান এক পর্যায়ে নজরুল হয়তো বুঝতে পারে সে প্রকৃত জেবা তাকিয়া নন। তখন খুলে দেয়া হয় হাত-পায়ের বাঁধন। তখন ফিঙ্গার প্রিন্ট দেয়া দরজা খোলা পেয়ে দ্রুত দরজা টপকে নজরুলের রুম থেকে বেরিয়ে সামনের বারান্দার দিকে দৌঁড় দেন তিনি। তারপর সেই বারান্দা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে পৌঁছে যান তিনশ ফিট রোডে। সেখানে পার্শ্ব রাস্তায় চলাচলকারী একটি চলন্ত অটো থামিয়ে সেটাতে উঠে বসেন। এভাবেই প্রাণে রক্ষা পান বলে জানিয়েছেন ইশরাত। দুদিন আগের এই বর্বরতার হাত থেকে বেঁচে ফেরা ইশরাতের পুরো শরীর জুড়ে আঘাতের চিহ্ন। ঘরে পৌঁছেই সে অচেতন হয়ে পড়ে বলে দাবি তার পরিবারের সদস্যদের।

অভিযোগের সূত্র ধরে, ঘটনাস্থলের বিবরণ মেলায় অনুসন্ধানী দল। সেখানে পৌঁছে মেলে বর্ণনার সত্যতা – ঢোকার ফিঙ্গার প্রিন্ট নিরাপত্তা বলয়। পালানোর বারান্দা নজরুলের কক্ষ সবই ঠিক ঠাক যার যার স্থানেই আছে। এছাড়াও বাস্তবেই আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ঘনিষ্ঠ দুই কর্মচারীর একজন পলাশ, আরেকজন মিয়ামি। এছাড়াও ইশরাতের মুঠোফোনের সেদিনে লোকেশন আর অবস্থানের সময়েরও মিল পায় অনুসন্ধানী টিম। মিলেছে ইশরাতের উবার বুকিং এর ডিজিটাল স্লিপও। আশিয়ান মেডিকেলের ভিতরে নজরুলের অফিস কক্ষে রয়েছে সুরঙ্গ সাদৃশ্য আলাদা
রুম আর সেখানেই তার টর্চার সেলের অবস্থান।

স্থানীয় বাসিন্দা কাঞ্চন মাষ্টার বলেন এই জাইল্যা নজরুল প্রায়ই বিভিন্ন লোককে তার টর্চার সেলে এনে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। কেউ তার ভয়ে টু শব্দ করেনা। মামলা তো অনেক পরের বিষয়। এলাকাবাসী তাকে বর্বর জাইল্যা হিসেবে চেনে। তার এসব পাষবিক অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ। তার প্রতিষ্ঠানের ষ্টাফদেরও প্রায়ই এরকম নির্যাতন করা হয়। সে একজন সায়কোপ্যাথ।

এদিকে ভিডিও কলে ইমনকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রীর সাথে ফোনালাপে মিলেছে তার উপর চলা নির্যাতন ও নখ উপড়ে ফেলার প্রমাণ। ইমন এখনও অচেতন।

তবে অনুসন্ধান বলছে এই ইমনের সাথে দীর্ঘদিনের সখ্যতা নজরুলের। পাশার চাল পাল্টে যাওয়ায় নজরুলের প্রকৃত শিকার জেবা তাকিয়াকে না পাওয়ায় কি এ নির্যাতন? নাকি ঘটনাস্থল থেকে ইশরাত জীবিত পালিয়ে আসায় নজরুলের এপস্টিন চরিত্রের হিংস্রতার শিকারে ইমন?

প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে আইন প্রয়োগকারীরা । অভিযোগের বিষয়ে আশিয়ান গ্রুপ বা অভিযুক্ত মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায়, ‘ এসকল অভিযোগ মিথ্যা পরবর্তীতে ইসরাতের লোকেশন ট্র্যাকিং এর কথা বলা হলে তিনি বলেন আমি তাকে ৪ বছর আগে চিনতাম,তখন তাকে বলা হয় আপনি তো তাকে জেবা তাকিয়া ভেবে মেরেছেন? সে তো জেবা তাকিয়া না তখন সে আগামীকাল সকালে দেখা করার কথা বলে লাইন কেটে দেন।

আরো পড়ুন

আ. লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার খবরটি গুজব : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুল নেওয়ার খবরটিকে গুজব বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির...

Read more
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক :: জুলাই গণ অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের  সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার...

Read more
জমি ক্রয়ে লুটপাটের বস্তাভর্তি টাকা যায় হোটেল ওয়েল পার্কে

বিশেষ প্রতিনিধি :: চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ১১ কোটি টাকার একটি জায়গা কিনতে সরকারের ১০৪ কোটি খরচ করেছিলেন কর্ণফুলী গ্যাস...

Read more
চট্টগ্রামের শীর্ষ সমন্বয়ক রাসেলের স্টাটাসে জুলাইয়ের সাংবাদিকদের স্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ::: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুরো চট্টগ্রাম যখন উত্তাল পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দু'জন সাংবাদিক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে...

Read more
চট্টগ্রামে খুলশী সেগুনবাগান মাদ্রাসার পরিচালক আজাহার ছাত্র বলৎকার মামলায় গ্রেফতার

চট্টগ্রাম ব্যুরো চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকার একটি মাদ্রাসার চালকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রকে (১৫) বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজহার...

Read more
Scroll to Top