তেল নিয়ে সিন্ডিকেট, টিকে গ্রুপের ৫০০ কোটি মুনাফা, ৩২ কোটি জরিমানা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on print

বিশেষ প্রতিনিধি :::

তেলের বাজার অস্থিতিশীল করে মাত্র দুই মাসে ভোজ্যতেলের সিন্ডিকেট করে ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে টিকে গ্রুপ। তেল সরবরাহে কারসাজি করে কোম্পানি মুনাফা করেছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। অনুসন্ধানে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়িক কোম্পানির তেল বিক্রিতে কারসাজির এসব তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে প্রতিযোগিতা কমিশনের  ৩২ কোটি জরিমানার পর। তেল বিক্রিতে কারসাজির অভিযোগে সম্প্রতি প্রতিযোগিতা কমিশন কোম্পানিটিকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালে সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে দেশের ৮টি প্রতিষ্ঠান সরকারকে তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য করে। অথচ তখন এ আটটি কোম্পানির গুদামে তেলের কোনো সংকট ছিল না। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ছিল টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

শবনম ভেজিটেবল অয়েল কোম্পানির সঙ্গে জড়িত একটি সরবরাহ আদেশ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, কোম্পানিটি তার পরিবেশকদের কাছে তেল সরবরাহে প্রায় ২৫ দিন সময় নেয়। যেখানে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে চাহিদাকৃত পণ্য সরবরাহ করার নিয়ম রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ ২০১১ এর অনুচ্ছেদ ৯ এর (৩) অনুযায়ী একটি সাপ্লাই অর্ডার এর মেয়াদ থাকে ১৫ দিন। এর বেশি মেয়াদ কোনোভাবেই বাড়ানো যাবে না।

অথচ এই আইনের তোয়াক্কা না করেই শবনম ভেজিটেবল অয়েল ও এর পরিবেশকদের মধ্যে একটি পরোক্ষ চুক্তি হয়। যা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা আইন ২০১২ এর ধারা ১৫ এর উপধারা ১ অনুযায়ী অন্যায়। বাজার অস্থিতিশীল করার এমন কুটচালে  ভোজ্যতেলের সরবরাহে কৃত্রিম সংকট দেখা দেয় এবং তেলের চাহিদা বাড়ে। আর আট কোম্পানির এই কারসাজির ফলে তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয় সরকার।এর প্রমাণও মেলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে মাসে ভোজ্যতেলের দাম এক লাফে বাড়ে ৮ টাকা। ১৬০ টাকা প্রতি লিটারে বিক্রি হওয়া তেল ১৬৮ টাকা নির্ধারণ করলেও এই দামে বিক্রি হয়নি। বরং সেসময় ১৭৫ টাকার নিচে তেল পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শবনম ভেজিটেবল অয়েল কোম্পানি তাদের তৎকালীন উৎপাদন ক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগায়নি। কৃত্রিম সংকট তৈরি করার লক্ষ্যে তাদের ক্ষমতার অর্ধেকে নামিয়ে আনে তেলের উৎপাদন। এ সময় কোম্পানিটি যা উৎপাদন করতো তার পুরোটাও বাজারে সরবরাহ করেনি। সে সময়ে কোম্পানিটির অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের ব্যাপক মজুদ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে টিকে গ্রুপের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় কম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক  মো. আবুল কালামের সঙ্গে।

প্রতিযোগিতা কমিশন কর্তৃক তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগে জরিমানার প্রসঙ্গটি তুলতেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত  একাধিকবার ফোন দিয়েও তার বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে প্রতিষ্ঠানটির আভ্যন্তরীণ  সূত্র জানিয়েছে, জরিমানার বিষয়টি এমডি আবুল কালামসহ কম্পানির ঊর্ধ্বতন সবাই জানেন। এ বিষয়ে তাদের আলোচনাও হয়েছে। তারা হাইকোর্টে প্রতিযোগিতা কমিশনের রায়কে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

আরো পড়ুন

রাহাতুল ইসলাম রাহাত :: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ৩১৪টি উপজেলা ও থানাকে সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে...

Read more
সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির পঞ্চম বৈঠক আজ (সোমবার) কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের...

Read more
জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার এলজিআরডি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ::: জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও...

Read more
বাংলাদেশের স্বার্থ ও সম্ভাবনাকে বিশ্বমানচিত্রে সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপন : মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক :: জাতিসংঘে চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং সম্ভাবনাকে বিশ্বমানচিত্রে অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে তুলে...

Read more
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক :: রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার করেছে...

Read more
Scroll to Top