১৯১ কোটি টাকা লুটপাটের নাম ‘ মুল্য সমন্বয় ‘

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on print

বিশেষ প্রতিনিধি :::

চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ৩,২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় কথা থাকলেও সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী,  প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানের কূটচালে ব্যয় দাঁড়িয়েছে  ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী  ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। লুটপাটের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাড়ানো হয়েছে বাস্তবায়নের সময়। ‘মুল্য সমন্বয়ের’ নামে প্রকল্পটির পরিচালক মাহফুজুর রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী  ১৯১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ছক চুড়ান্ত করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাক্স ‘। 

নথি অনুযায়ী,  ১ হাজার ৪৮ কোটি টাকা বাড়ানো হয় প্রকল্পের ব্যয়। বিগত সরকারের আমলে  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সকে সুবিধা দিয়ে অর্থ লুটপাটের চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে।   চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের  প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস ও প্রকল্পটির  পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের  বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনেক আগ থেকে। কিন্তু বিগত সরকারের সময় ‘আওয়ামী কার্ড’ ব্যবহার করে বেঁচে যান বিভিন্ন সংস্থার তদন্তের জাল থেকে।

সুত্রমতে, “সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটি” তে সিডিএ-এর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের একটি মূল্য সমন্বয় ফাইল (Price Adjustment File) সাবমিট করা হয়ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত  প্রকল্প শেষ করার কথা। এই প্রকল্পের দরপত্র চুক্তিতে ‘মূল্য সমন্বয়ের’ কথা উল্লেখ ছিলো না। অথচ ‘ মূল্য সমন্বয়ের’ নামে ১৯১ কোটি টাকা লুটপাটের সব আয়োজন চুড়ান্ত। 

গণপূর্ত অধিদফতরের একটি সুত্র জানিয়েছে  এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মূল্য সমন্বয় ভেরিয়েশন করার জন্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পরিচালক  মাহফুজুর রহমান ফাইল জমা দেয়। শুরুতে গণপূর্ত সচিব PWD কে ফাইলটি তদন্তের জন্যে দেয়। কিন্তু পিডি মাহফুজ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পেলে সব ঘাট। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প সময় মতো শেষ না করে, প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করে ‘মূল্য সমন্বয়’করে প্রকল্পের বরাদ্দের চেয়ে বেশী টাকা পাস করানো হচ্ছে।

সুত্রমতে,  গণপূর্ত সচিব ওই ফাইলটি সিডিএ-এর সার্বক্ষণিক সদস্য জামিলুর রহমান ও সিডিএ প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ারুল নজরুল’কে তদন্ত করে ফাইল সাবমিট করার দায়িত্ব দেন। ফাইলটি তদন্তের জন্যে সিডিএ-তে আসলে মাহফুজ সার্বক্ষণিক সদস্য ও প্রধান প্রকৌশলীকেও মোটা অংকের টাকা দিয়ে কিনে নেন। পরবর্তীতে ফাইলটিতে পজিটিভ রিপোর্ট দিয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় । এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে “সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটি” তে প্রেরণ করা হয়। যদিও ফাইলটি এখনও পর্যন্ত পাস হয়নি। এই ফাইলটি পাস হলে ১৯৩ কোটি টাকা বেশি হাতিয়ে নিয়ে যাবে ম্যাক্স ও মাহফুজ গং।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,  প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানকে উলঙ্গভাবে সহযোগিতা করছে সিডিএ’র সার্বক্ষণিক সদস্য জামিলুর রহমান ও প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ারুল নজরুল। 

সম্প্রতি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্র জাকারিয়া তাহের সুমন চট্টগ্রাম এসেছিলেন।  তখন এই বিষয় নিয়ে সার্কিট হাউজের মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা এক প্রকৌশলী প্রতিবেদককে জানান সিডিএ’র সার্বক্ষণিক সদস্য জামিলুর রহমান মন্ত্রীর সামনে সুক্ষ্মভাবে প্রকল্প পরিচালক  মাহফুজুর রহমানের পক্ষে হয়ে  কথা বলেছেন। যদিও তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কেউই নন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  প্রকল্পটির সময় বৃদ্ধির ব্যাখা দেয়া জামিলুর রহমান সিডিএ-তে নিয়োগই পেয়েছেন কাজ প্রায় শেষ হাবার পরে ( ২০২৫ সালে)। 

সংশ্লিষ্ট সুত্রমতে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে যে দুর্নীতি হয়েছে তার তদন্তের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিলো। সেই তদন্ত কমিটি মাহফুজের তদবিরের কারণে মাহফুজের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়,  ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্টের পরও আওয়ামী লীগের দাপুটে প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি থামিয়ে দেয়া হয়েছে অদৃশ্য হাতের ইশারায়।  লুটপাটের টাকা আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় পাচারের অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামী রোড,  দেওয়ানহাট থেকে এ.কে খান রোড,  সাগরিকা স্টেডিয়াম রোড নির্মাণেও ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ আছে নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে। পর পর দুটি প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান  ম্যাক্সকে অনিয়ম করে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

টোল আদায়ের অর্থ ভাগাভাগি – লুটপাটের দেড় বছর 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ে থেকে টোল আদায় ( টেন্ডার ছাড়া)  খাতে গত দেড় বছরে অন্তত ১৫ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। উদ্বোধন হবার পর থেকে এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায়ের কাজ করছেন ফ্যাসিস্ট সরকার আমলের টোলখাতের অন্যতম লুটেরাখ্যাত ‘জহির উদ্দিন’। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় লুটেরা টমা কন্ট্রাস্ট্রাকশনের মালিক মানিকের ভাগিনা টোলের  জহির। সুত্রমতে, টমার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন জহির। গোপনে জহির ( বেস্ট ইস্টার্ন)  ও প্রকল্প পরিচালক মাহফুজ ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন আদায় হওয়া টোলের সিংহভাগ। 

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক  মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ দৈনিক ভিত্তিতে গত বছরের জানুয়ারি থেকে  টোল আদায়ের কাজ দেখাশুনা করার জন্য লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমি কিছু জানি না। কনসালটেন্ট ডিটিসি টোল আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয়  লোকবল নিয়োগ দিয়েছেন।  টোল আদায়ের জন্য  সফটওয়্যার ক্রয় করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। জহির নামের কাউকে তো চিনি না।  ‘

টোল আদায় ও টাকা জমা দেবার কাজ কে তদারকি করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রকৌশলী  মাহফুজ জানান জনৈক সাদ্দাম হোসেন।

বিভিন্ন সুত্রে প্রতিবেদক নিশ্চিত হয়েছেন সাদ্দান হোসেন জহিরেরই কর্মচারী। দীর্ঘদিন ধরে তমা কনস্ট্রাকশানের কর্ণধার মানিকের ভাগিনা পরিচয়ে ‘ইউডিসি ভান’ ‘বেস্ট ইস্টার্ন ‘ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে দেশের টোলপ্লাজা ইজারাদারের কাজ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন চট্টগ্রামের  এক্সেস রোড়ের টোলপ্লাজাটিও কোন ধরনের টেন্ডার ছাড়া পরিচালনা করে আসছিলেন জহির।

অনুসন্ধানে পাওয়া ভিডিও চিত্র অনুযায়ী ওই টোলপ্লাজার ম্যানেজার সাদ্দাম হোসেন এখন দায়িত্ব পালন করছেন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায় কাজ তদারকির। প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাদ্দাম হোসেন এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায় ও সিডিএতে জমা প্রদান করছেন।  

সুত্রমতে, দেড় বছর আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী জহির গং’এর সাথে মিলেমিশে টোলের রাজস্ব লুটপাটের পর সম্প্রতি  তড়িগড়ি করে এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায়ের টেন্ডার আহবান করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান। সুত্রটি জানিয়েছে, উড়াল সেতুর সব রাম্প চালুর পূর্বে তাড়াহুড়ো করে টেন্ডার আহবানের নেপথ্যেও টোলখাতে শত কোটি লুটপাটের ছক। জরিপ অনুযায়ী পুর্নাঙ্গভাবে চালু হলে এই এক্সপ্রেসওয় দিয়ে  দৈনিক ৭৭ হাজার গাড়ি চলাচল করবে। বর্তমানে চলে সাড়ে সাত থেকে আট হাজার গাড়ি। রাম্প চালু হবার পর গাড়ি চলাচল প্রায় নয়গুন বৃদ্ধি পাবে।

অনুসন্ধানে সিডিএর এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে  টোলপ্লাজায় কর্মরত এক শ্রমিক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। সে জানায় ‘ রাম্প চালু হলে যে পরিমাণ গাড়ি বৃদ্ধি পাবে বর্তমানে তার চেয়ে ৮/৯ গুন কম গাড়ি চলে। টোলের টাকা সিডিএ’র একাউন্টে জমা হচ্ছে। একারণেই রাম্প উদ্বোধনের আগে টেন্ডার আহবান করে কম দরপ্রস্তাবে ( বর্তমান গাড়ি চলাচলের উপর) টোলপ্লাজার ইজারাদার চুড়ান্ত করা হচ্ছে। ‘

বর্তমানে কার পক্ষে টোল আদায় করছে এমন প্রশ্নের উত্তরে করিম নামের ওই কর্মচারী জানান জহিরের পক্ষে। জহিরের ম্যানেজার সাদ্দাম হোসেন তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি সুত্র জানিয়েছে, প্রকল্প পরিচালক মাহফুজের ছক অনুযায়ী বর্তমানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টেন্ডার ছাড়া টোল আদায়কারী জহির উদ্দিনকেই টোলের ইজারাদার হিসেবে চুড়ান্ত করা হবে। তমা কনস্ট্রাকশানের কর্ণধার মানিকের ভাগিনা জহির বেস্ট ইস্টার্ন নামের একটি লাইসেন্স ব্যবহার করে দরপত্রে অংশ নিয়েছেন।

ব্যয় সমন্বয়ের নামে স্পষ্টত লুটপাট 

২০১৭ সালের জুলাই মাসে যখন এই মেগা প্রকল্পটি প্রথম একনেক (ECNEC) সভায় অনুমোদিত হয়, তখন এর প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় বা বাজেট ছিল ৩,২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে সিডিএ এবং ম্যাক্স-র‌্যাঙ্কিন যৌথ কোম্পানির মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। প্রাথমিকভাবে এটি ৩ বছরে শেষ করার কথা থাকলেও লুটপাটের ছক অনুযায়ী  প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। যদিও এর আগে ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছিল। এই প্রকল্পে মেগা দুর্নীতির পরও  চুক্তি বহির্ভূত  মুল্য সমন্বয়ের নামে রাস্ট্রের ১৯১ কোটি টাকা যাবে প্রকল্প পরিচালক মাহফুজ ও ঠিকাদার ম্যাক্সের পকেটে ।

আরো পড়ুন

তেল নিয়ে সিন্ডিকেট, টিকে গ্রুপের ৫০০ কোটি মুনাফা, ৩২ কোটি জরিমানা

বিশেষ প্রতিনিধি ::: তেলের বাজার অস্থিতিশীল করে মাত্র দুই মাসে ভোজ্যতেলের সিন্ডিকেট করে ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে টিকে...

Read more
ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দশম শ্রেণির ছাত্রকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ...

Read more
নোয়াখালীতে স্থানীয়দের ধাওয়ায় পিস্তল ফেলে পালাল যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক :: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি ফেলে পালিয়ে গেছে...

Read more
চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টোল চুরির ‘ড্রাই রান’

বিশেষ প্রতিবেদক ::: চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ে টোল থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই...

Read more
ছাত্রদল নেতা হত্যার প্রধান আসামি বরিশাল থেকে বিসিবির কাউন্সিলর

সিলেট প্রতিনিধি ::: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন ২০০৫ সালে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ...

Read more
Scroll to Top