শাহরিয়ার রিফাত
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে সারাদেশে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। চট্টগ্রামে এই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নেপথ্য চরিত্র হয়ে ওঠেন সিনিয়র সাংবাদিক ওয়াহিদ জামান। শুরুতে তিনি কেবল প্রতিবেদন করছিলেন, তবে এক পর্যায়ে তিনি সরাসরি আন্দোলনের সহায়ক হয়ে ওঠেন। ছাত্র সমন্বয়কদের আস্থা ও নির্ভরতার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে উঠেন।
টাইগার পাস এলাকায় এক সাহসী ছাত্রের ভিডিও দেখে আন্দোলনের গভীরতা অনুধাবন করেন ওয়াহিদ। একাই পুলিশের মুখোমুখি হলেন খান তালাত মাহমুদ রাফি – সেই ভিডিও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা নেন।
এরপর চট্টগ্রামে ছাত্রনেতা ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে দেখা হয় চকবাজারের প্যারেড মাঠ সংলগ্ন সড়কে । ৩/৪ দিন পর ওয়াসিম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। মুলত ওয়াসিম শহীদ হবার ঘটনায় মর্মাহত হয়ে ওয়াহিদ আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি করেন । গোপনে নগরের কলেজ -বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে , ছাত্রদের মেসে মেসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মিদের আন্দোলনে সম্পৃত্ত হতে অনুপ্রেরণা যোগান ।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালীন সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গড়ে উঠা সাথে যোগাযোগ দেশে ফেরার পরও কাজে লাগিয়েছেন তিনি । যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমেদের মাধ্যমে আন্দোলনের মাঠের খবর পৌছে দিতেন লন্ডনে । বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনা ও পরামর্শ অনুযায়ী আইনজীবি , সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করেছেন ওয়াহিদ জামান ।
জুলাইয়ের দ্বিতৃয় সপ্তাহে তিনি চট্টগ্রামের ১১ জন সাংবাদিককে নিয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কর্মসুচী সমন্বয়, পরিকল্পনা, প্রচার এবং সমন্বয়কদের নিরাপত্তায় কাজ করেন। কিন্তু কিছু সাংবাদিক তাদের নাম গোপন সংস্থার কাছে দিলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সমন্বয়কদের গ্রেফতার এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। পরে দুবাই থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যানের সহায়তায় ছাত্র সমন্বয়কদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন পরিবর্তন করে নতুন মোবাইলের ব্যবস্থা করেন। তাদের পৌঁছে দেন নতুন সিমকার্ড।
সাংবাদিক, সেনাকর্মকর্তা, আইনজীবীদের একটি প্ল্যাটফর্ম এই আন্দোলনকে সহযোগিতা করে আসছিলো। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কর্মসূচীর নিরাপদ স্থান নির্ধারণ, আহতদের চিকিৎসা, সমন্বয়কদের নিরাপদ বাসস্থান ঠিক করা, গ্রেফতার এড়িয়ে কর্মসূচিতে আনা -নেয়া করা। এসব কিছুতেই কেটেছে পুরো জুলাই। কিছু কিছু পুলিশ কর্মকর্তা – যারা সাবেক ছাত্রদল নেতা, আন্দোলনের সময় ওয়াহিদ জামানের সাথে যোগাযোগ রেখে সহযোগিতা করছিলেন ।
ওয়াহিদ ও আইনজীবী রেজাউল ইসলাম মিলে ছাত্রনেতাদের গোপন আশ্রয় ঠিক করেন। খান তালাত মাহমুদ রাফি, রাসেল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সমন্বয়ক জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে এসব আস্তানায় থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাদের ৪ আগস্ট ঢাকায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন ওয়াহিদ জামান । কাউকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাঠানো হয় কাভার্ড ভ্যানে, কেউ অ্যাম্বুলেন্সে, আবার কেউ সবজিভর্তি ট্রাকে।
তিনি ছাত্রদের সঙ্গে গোপন কোডে যোগাযোগ রাখতেন, সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সহায়তায় কর্মসূচি শেষে সমন্বয়কদের নিরাপদে সরিয়ে নিতেন।
ওয়াহিদ বলেন, “এই আন্দোলন সফল হয়েছে সবাই মিলে পাশে দাঁড়ানোর জন্য—সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, সাধারণ মানুষ।
ওয়াহিদ জামানের মতো মানুষদের অবদানে এই আন্দোলন পরিণত হয় একটি জাতীয় আন্দোলনে।




