সিলেট প্রতিনিধি :::
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন ২০০৫ সালে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডটি তৎকালীন সময়ে সিলেটের ছাত্র রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল। প্রকাশ্য দিবালোকে ক্যাম্পাসে লিটনের বুকের উপর উপুর্যুপরি মাড়িয়ে খুন করেছিলো একদল হিংস্র যুবক। তাদের নেতৃত্ব দেন কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিভাগের ছাত্র মইন নাসির রুবেল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে যাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিলো; দুই যুগ পরে এসে বিসিবির কাউন্সিলর করা হয়েছে সেই ‘রুবেল‘ কে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম লিটন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের নবম ব্যাচের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মেধাবী ছাত্রনেতা লিটনকে হত্যা করা হয়েছিলো।
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে লিটনের নৃ বিজ্ঞান বিভাগের এক সহপাঠী জানান, ‘ কিছু যুবক তাকে ডেকে নেয়। এরপর তাকে মাঠিতে ফেলে বুকের উপরে চেপে বসে ‘রুবেল ‘। বুকের উপর উঠে উল্লাস করে পা মাড়িয়ে লিটনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিলো। লিটন ছিলো মায়ের একমাত্র সন্তান। চরম দরিদ্রতায় তিনি একমাত্র ছেলে লিটনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেছিলেন। ছুরি মেরে, গুলি মেরে নয়, বুকের উপর দাঁড়িয়ে, উপুর্যুপরি দুই পা দিয়ে মাড়িয়ে মারা হয়েছে। এমন ঘটনা সারাদেশে আরেকটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। ‘
বিভৎস হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে লিটনের এই বান্ধবী বলেন, ‘ লিটনের মায়ের আবেদনে বেগম খালেদা জিয়া লিটন হত্যার সাথে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার ব্যবস্থা করেছিলেন। আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিলো প্রধান আসামি রুবেলকে। যতদুর মনে পড়ে, বরিশাল বাড়ি ছিলো রুবেলের। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাহাবউদ্দিন লাল্টুর স্ত্রীর ভাই পরিচয় দিতেন। লিটন হত্যার পর জানা যায় লাল্টুর সাথে কোন আত্নীয়তা নেই। ‘
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন হত্যার পর মামলা দায়ের করা হয়েছিলো সিলেটের কোতোয়ালি থানায়। কিন্তু লিটনের মায়ের মৃত্যুর পর স্বজনরা সেই মামলার কোন খোঁজ রাখেন নি।
লিটন হত্যার সময় সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন এমরান আহমেদ চৌধুরী। তিনি বর্তমানে গোলাপগঞ্জ -বিয়ানীবাজার আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সিলেটের ইতিহাসে দুঃখজনক হত্যাকাণ্ড ছিলো। প্রকাশ্য দিবালোকে মায়ের একমাত্র অবলম্বনকে মেরে ফেলা হয়েছিলো। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জড়িতদের বহিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রুবেলকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিলো। মামলা কিংবা দোষীদের বিচারের বিষয়টি জানা নেই। ‘
মঈন নাসির রুবেলকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বরিশাল বিভাগ থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বরিশালে খোঁজ নিয়ে ক্রিকেট কিংবা অন্য কোন খেলাধূলায় কোন সংশ্লিষ্টতা মেলে নি রুবেলের। লিটন হত্যার পর থেকেই ঢাকায় বসবাস করতেন রুবেল। হত্যাকান্ডের পর ঢাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাইয়ের মতো বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার কারণে পরিবারের সদস্যরা তার সাথে যোগাযোগ রাখতেন না।
এদিকে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও সবচেয়ে নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী মইন নাসির রুবেলের বিসিবির কাউন্সিলর হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
লিটন হত্যা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার সম্পর্কে জানতে মঈন নাসির রুবেলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেন নি।




