নিজস্ব প্রতিবেদক :::
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জব্বারের বলি খেলাকে ঘিরে চলামান মেলার দোকানদারদের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে তাদের আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ফাহিম, সদস্য মোঃ তুহিন, ছাত্রলীগের নেতা তৌহিদ, অনিক। আটককৃতরা নগর বিএনপি নেতা আবদুল মান্নানের অনুসারী বলে জানান গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় দুইজন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আটককৃতদের দুইজন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবদুল মান্নানের অনুসারী বলে জানা গেছে। বাকি দুইজন ছাত্রলীগের কর্মী। তৌহিদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা রয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
থানা সুত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতা আবদুল মান্নানের ভাগিনা রাব্বি ও থানা বিএনপির নেতা তারেক তাদের ছাড়িয়ে আনতে থানায় গেলেও বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হন।
এরআগে এয়ারপোর্ট থেকে আটক হওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নেবার বিষয় নিয়ে বিএনপি নেতা মান্নানের অডিও ভাইরাল হয়ছিলো। আটক হওয়া যুবকদের একজনের নাম অনিক – যিনি সাবেক কাউন্সিলর আনজুন আরার ভাগিনা।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলি খেলা ও বৈশাখী মেলাকে ঘিরে প্রতি বছরই চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে, এবং ২০২৬ সালের আসরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, মেলায় দোকান বসাতে এবং মালামাল আনতে তাদের পদে পদে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মালামাল আনা ও দোকান বসানো, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে আসার সময় গাড়িপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা এবং দোকান বসানোর জন্য ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ভাড়া’ বা চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে যে, স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র এবং পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে দোকানভেদে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
দোকারদানদের সাথে কথা বলে জানা যায় দিনের বেলা দোকান বসানোর চাঁদা ছাড়াও রাতে ৫-৭ জনের দল এসে আরও ২-৫ হাজার টাকা করে নিয়ে যাচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
আগের বছরের তুলনায় চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে চাঁদাবাজি কমছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।




