বাসস :
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ১৩ দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া ‘এক্সারসাইজ টাইগার লাইটেনিং (টিএল)-২০২৬’ শুরু হয়েছে। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে রোববার সিলেট সেনানিবাসে মহড়ার উদ্বোধন হয়। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই প্রশিক্ষণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান বলেন, এ যৌথ মহড়া দুই দেশের সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও যৌথ প্রশিক্ষণ ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এটি উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, এ মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক কমান্ড ও ওরেগন ন্যাশনাল গার্ডের ৯১ সদস্য এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ বিভিন্ন ইউনিটের ৯৩ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে অংশগ্রহণকারী ১৮৪ জন।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিকের থিয়েটার আর্মি ক্যাম্পেইন প্ল্যানের অংশ হিসেবে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর পেশাগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা, যৌথ অভিযানে সমন্বয় বাড়ানো, প্রস্তুতি উন্নত করা এবং আন্তকার্যক্ষমতা (ইন্টারঅপারেবিলিটি) বৃদ্ধি করাই মূল লক্ষ্য।
২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘টাইগার লাইটেনিং’ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় যৌথ মহড়া। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংক্ষিপ্ত বিরতির পর এটি আবার নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।




