নিজস্ব প্রতিবেদক ::
চট্টগ্রামের অভিজাত হোটেলে ঈদ উপলক্ষে মেলা আয়োজন নিয়ে চলছে নানা কানাঘুষা। দুটি গ্রুপকে মেলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু একই ভেন্যুতে নারী উদ্দ্যেক্তাদের সবচেয়ে বড় গ্রুপ ‘ গার্লস প্রায়োরিটি’র অনুমতি আটকে রাখা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেলার অনুমতি দিয়ে চরম বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে। দুটি গ্রুপকে অনুমতি দেয়া হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে। একটি গ্রুপের আয়োজনে চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘গ্র্যান্ড ঈদ এক্সিবিশন’ চলছে। অভিযোগ উঠেছে এই মেলা আয়োজনে জড়িত নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার বান্ধবী। একারণে হোটেলের বাইরে কাজীর দেউড়ি থেকে লালখান বাজার ইস্পাহানিমুখী সড়ক আংশিক বন্ধ রেখেছে পুলিশ । ফলে শত শত গাড়ি ঘুরছে ওয়াসা মোড় হয়ে। একারনে রিকশা ভাড়া বেড়েছে, যাত্রীরা মাঝপথে নেমে হাঁটছে, চালকদের সঙ্গে তর্ক চলছে। ট্রাফিক পুলিশ বলছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সড়ক ব্লক রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১১ মার্চ থেকে মেলা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও পুলিশের অনুমতি পাচ্ছে না গার্লস প্রায়োরিটি নামের আরেকটি নারী উদ্দোক্তা গ্রুপ। তিন দিনের আয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের অতিথি হিসেবে যোগ দেবার কথা থাকলেও এখনো মেলে নি অনুমতি।
নগরীর রেডিসন হোটেলে ‘গ্র্যান্ড ঈদ এক্সিবিশন’ নামে তিন দিনব্যাপী একটি কাপড়ের মেলা আয়োজন করেছে এম অ্যান্ড এম বিজনেস কমিউনিকেশনস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ মেলাকে ঘিরেই সড়কটিতে যান চলাচল আংশিক সীমিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানতে চাইলে ট্রাফিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসলে রেডিসন ব্লুর যেই মেলা এই সংক্রান্ত অফিশিয়ালি আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি আর মেলার আয়োজক কে বা কারা আমরা চিনিও না। তারপরও গত দুদিন এই সংক্রান্তে ওই এলাকায় যে ধরনের জ্যাম হয়েছে, আমার ট্রাফিক পুলিশকে এটি সামাল দিতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ৫ স্টার হোটেলের এ মেলা রাস্তার জন্য একটি অসহনীয় যানজটের সৃষ্টিকারী হয়ে পড়েছিল। তারা একটি একটি করে গাড়ি তল্লাশি করে প্রবেশের অনুমতি দেয়। তারপরও আমরা দুঃখিত আমাদের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যগণ এটি সুষ্ঠু ভাবে সামাল দিতে পারেনি। খুব বেশি জ্যাম তৈরি হওয়ায় তাৎক্ষণিক ইস্পাহানি মোড় থেকে কাজিরদৌড়ি পর্যন্ত আমার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (মৌখিক অনুমতি নিয়েই) এটি বন্ধ করেছিল, কতক্ষণ পরে ক্লিয়ার হয়ে যাওয়ার পর সে এটি ছেড়ে দেয়। জনগণ যে কষ্ট করেছে, আমি ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় এবং সরকারী ঘোষণা ছাড়া এমন অযাচিত বন্ধ যেন না হয় সে ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবো। ‘
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এম অ্যান্ড এম বিজনেস কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাঞ্জুমা মোরশেদ নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার বান্ধবী। একারণে তাকে মেলা আয়োজনের অনুমতি যেমন দেয়া হয়েছে ; তেমনিভাবে রাস্তা বন্ধ করে বাড়তি সুবিধা দেয়া হয়েছে। যদিও বিগত সরকারের সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষমতা প্রদর্শন করতেন এই নারী উদ্যোক্তা।
নারী উদ্দ্যেক্তাদের অভিযোগ, ফ্যাসিবাদের দোাসর পুলিশ কর্মকর্তার কাঁধে চড়ে দেখাচ্ছেন ক্ষমতার জোর। তিনি অনুমতি পেলেও বাকিদের অনুমতি আটকে দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ।
জানতে চাইলে নারী উদ্দোক্তা সাইদা তামান্না বলেন, প্রশাসনের এই স্পেশাল ট্রিটমেন্টের কারণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা জানতে চায়। ছোট উদ্যোক্তারা মেলা করলে প্রবলেম। কিন্তু নির্দ্বিধায় তারা করতেছে ফেয়ার। ফেয়ার হলে চিটাগাং এর সব জায়গায় হতে দেওয়া উচিত না হলে সব জায়গায় বন্ধ করে দেয়া উচিত। আমি বুঝিনা এটা কি ধরনের বৈষম্যতা। ‘
এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোন কর্মকর্তা।




