পার্বত্য জেলা পরিষদে চাকমার পাশাপাশি অন্য নৃগোষ্ঠীর নেতাদের ক্ষমতা ভারসাম্য তৈরি সময়ের দাবি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on print

বিশেষ প্রতিনিধি :::

একটি গোষ্ঠীকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে মারমা সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন  ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোকে সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। নৃগোষ্ঠীর মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়   প্রথাগত ভূমি অধিকার হারানো মারমা ও ত্রিপুরাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। ঐতিহ্যগত জুম চাষ ও পাহাড়ি ভূমি বেদখল হয়ে যাওয়া এবং বাইরে থেকে যাওয়া বাঙালিদের বসতি স্থাপনের কারণে তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি যেমন দুর্বল হয়ে পড়েছে ; তেমনিভাবে একক উত্থান ঘটেছে চাকমা সম্প্রদায়ের।

পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি), ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো আজ একটি জটিল আন্তঃসংযুক্ত নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে ইতিহাস, ভূরাজনীতি এবং দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে মিলে তৈরি করেছে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা এবং মারমা-ত্রিপুরা-মং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে অসম ক্ষমতায়ন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু চাকমাদের বসবাস নয়। এখানে মারমা (দ্বিতীয় বৃহত্তম)ত্রিপুরী, ম্রো (বা মুরং)তঞ্চঙ্গ্যা, বম,খিয়াং, খুমি, চাক, পাংখো (বা পাংখোয়া) লুসাই নৃগোষ্ঠীর বসবাস এই অঞ্চলকে বৈচিত্রময় করেছে। 

পার্বত্য চট্টগ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, লুসাইয়ের মতো নৃগোষ্ঠীর সাথে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবানে জেএসএস, ইউপিডিএফ , ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে দুরত্ব তৈরি হয়।  মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র বাহিনীর সাংগঠনিক কার্যক্রমে মারমা, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সমর্থন ছিলো না। তিনটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে চাকমা নেতাদের আধিপত্য বৈষম্য ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে। 

পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ৬টি প্রধান আঞ্চলিক সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দলগুলো মূলত আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তাদের সাথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত পাহাড়ি নেতাদের নিবিড় যোগাযোগ থাকার কথা বহুল চর্চিত একই বিষয়। মারমা সম্প্রদায়ের পিছিয়ে থাকা তরুণদের দলভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সাথে আভ্যন্তরীণ সমঝোতা পাহাড়ের ভূ-রাজনৈতির সংস্কৃতির নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা। সারাদেশের মধ্যে বিএনপির এখানে ভোটের সংখ্যা ছিলো সবচেয়ে বেশি। সুত্রমতে,  শুধু সন্তু লার্মা নয় ছয়টি সশস্ত্র সংগঠনের নেতাদের সাথে আভ্যন্তরীণ সমঝোতায় ভোটের বৈতরণী পার করেছে বিএনপি। বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করার শর্ত ছিলো পাহাড়ি জাতিগত স্বার্থে ঐক্যমত। যদিও  পাহাড় জুড়ে  অস্ত্র- চাঁদাবাজি – সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণের মতো রাস্ট্রীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে এমন ইস্যুতে  ছাড় দেবার মানসিকতা ছিলো না বিএনপির নীতিনির্ধারকদের। তিন পার্বত্য জেলার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচন করার ক্ষেত্রে  গোত্রভুক্ত  নেতাদের অগ্রাধিকার  (চাকমা) দেয়ার অলিখিত  চুক্তি ছিলো। এই বিষয়টি জানাজানি হবার পরই মুলত মন্ত্রণালয় থেকে দীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেয়া হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান পদত্যাগ করার পর  পাহাড়ি জনগোষ্ঠী সাথে বিএনপির স্বার্থের দূরত্ব  নিবিড়ভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। 

সুত্রমতে, সুনির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে বিএনপির সাথে সমঝোতা হয় জেএসএস, ইউপিডিএফসহ ছয়টি সংগঠনের। বিএনপি থেকে বিনা বাঁধা বিজয় লাভ করে ‘ দিপেন দেওয়ান’ এসব সংগঠনের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছে। একারণে শেষ পর্যন্ত নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। যদিও তিনি অসুস্থতার বিষয় সামনে এনেছেন।

পাহাড়ি জাতিস্বত্বার অধিকার ও উন্নয়ন জেএসএস কিংবা  ইউপিডিএফে চোখ দিয়ে দেখার আভ্যন্তরীণ প্রতিশ্রুতি রাখতে অনড় ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান।

পাহাড়ী সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে শাস্তি চুক্তি পরবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামে মারমা-ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নেতাদের পরিকল্পনা করে পিছিয়ে দেয়া হয়েছিলো। দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও উন্নয়ন বরাদ্দের বিতরণ কিংবা সামাজিক কল্যাণ – সবকিছুতেই মারমা-ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সাথে সীমাহীন বৈষম্য করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহৎ  ক্ষুদ্র  জাতিগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে সকল সুবিধা কেবল একটি গোষ্ঠীর (চাকমা) মাঝে সীমাবদ্ধ করার কারণে একক আধিপত্য তৈরি হয়েছে। 

আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির রাজনীতিতেও দীর্ঘ সময় ধরে  পুনর্বাসন করা হয়েছে একই সম্প্রদায়ের নেতাদের। যার কারণে রাঙ্গামাটি -বান্দরবানে নির্বাচনী মাঠ যতোটা কুসুমাস্তীর্ণ ছিলো খাগড়াছড়ি আসনে ওয়াদুদ ভুঁইয়ার নির্বাচন ততোটাই কন্টকসংকুল ছিলো। তবে মারমা সম্প্রদায় বিএনপির প্রার্থী  ওয়াদুদ ভুঁইয়া তথা বিএনপির উপর আস্থা রেখেছে ; সেটি নির্বাচনের ফলাফলে ফুটে উঠেছে।

বিএনপির তৃনমুলের সাথে কথা বলে জানা যায়, মারমাদের নেতা মাসাথোয়াই মার্মার ইস্পাত-দৃঢ় অবস্থানের মারমা -ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ভোটাররা মরিয়া হয়ে অবস্থান নেয় বিএনপির পক্ষে। যদিও তিন যুগের বেশি সময় ধরে মারমা সম্প্রদায়ের সাথে বিএনপির রাজনৈতিক সখ্য তৈরি হয়েছে। একারণেই ক্ষমতার বন্টনে মার্মা সম্প্রদায়ের নেতাদের কার্যত দাবিয়ে রাখার প্রবনতা দেখা গেছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্যবাহী হেডম্যান, কারবারি ও স্থানীয় পরিষদের (যেমন: রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ) ক্ষমতা ও কার্যকারিতা সীমিত রাখার কারনে  পাহাড়ি জাতিগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে নি। এছাড়া মূল স্রোতের সংস্কৃতির প্রভাব এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে নিজস্ব মাতৃভাষার অপর্যাপ্ত ব্যবহারের কারণে মারমা ও ত্রিপুরারা ধীরে ধীরে নিজেদের সমৃদ্ধ ভাষা ও ঐতিহ্য হারাচ্ছে। 

চাকমাদের ক্ষমতায়নের ছকে সংরক্ষিত আসনেও মারমাদের দুরে রাখার কৌশল চোখে পড়েছে এবার।  বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী মাধবী মারমার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা।

পাহাড়ের প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের আগে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর বিলুপ্তি ও জেএসএস (সন্তু গ্রুপ)-এ যোগদান তিন পার্বত্য জেলায়  নিরাপত্তা সংকটের নতুন অধ্যায়ের সুচনা করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে হঠাৎ করেই বড় ধরণের পটপরিবর্তন হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিবাদমান ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর একটি বড় অংশ তাদের সংগঠন বিলুপ্তি ঘোষণা করে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস-এ যোগ দিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ দলবদল মনে হলেও, নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে এটি পাহাড়ের জন্য এক গভীর শঙ্কার বার্তা।

মারমা, ত্রিপুরাসহ বেশ কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ  জেএসএসের চেয়ে  বিএনপির রাজনীতিতে আগ্রহী বেশি। তারা বলছেন এবার শুধু  নেতকর্মী  নয়, এই যোগদানের সাথে প্রায় ৫৫টি ভারী ও আধুনিক অস্ত্র জেএসএস-এর ভান্ডারে যুক্ত হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি কি পাহাড় অস্থিতিশীল করার  নীল নকশা হিসেবে দেখেছেন পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালিরা। সেই স্রোতে সশস্ত্র কার্যক্রমের বিপক্ষে নিজেদের সমর্থন দিয়েছেন মারমা জনগোষ্ঠী। কারণ জেএসএস (সন্তু গ্রুপ)-এর শক্তি বৃদ্ধি মানেই প্রতিপক্ষ দমনে আরও আগ্রাসী ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাঁদাবাজির খড়গ নেমে আসা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাহাড়ের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত প্রবীণ এক নেতা বলেন,  পাহাড়ে বছরে প্রায় ১০০০-১৫০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির অর্থনীতি বিদ্যমান। নতুন এই সমীকরণে মার্মা-ত্রিপুরাসহ সংখ্যালঘুদের আতঙ্ক  বাড়িয়ে দিয়েছিল। সন্তু লার্মার শক্তি বৃদ্ধিকে  সাধারণ জুমচাষি থেকে শুরু করে পাহাড়ের ব্যবসায়ী—সবার মনেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একারণে তিন  পার্বত্য  জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য নির্বাচনে চোখ রাখছে সাধারণ মানুষ। 

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই  পাহাড়ে অশান্তির ফিসফাঁস শুরু হয়েছে। সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে রাষ্ট্রের এখনই কঠোর হওয়া প্রয়োজন। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সীমান্তে কড়া নজরদারি এবং সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে, পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি আবারও বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠতে পারে। জেএসএস কিংবা ইউপিডিএফের হাতের মুঠোয় থাকা বিএনপি নেতাদের সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে সতর্ক করেছেন। পাহাড়ে বিভক্তির কাঁটা বিছানো সংস্কৃতি এড়িয়ে শান্তিপ্রিয় মারমা সম্প্রদায় ( সংখ্যালঘু)  থেকে পাহাড়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য বিএনপির নীতিনির্ধারকদের  পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল ধর্ম -বর্ণ, নৃ-জাতি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে ‘রেইনবো জাতি ‘ গঠনের কথা বলেছেন বার বার। একারণে  পাহাড়ে বসবাসরত নৃগোষ্ঠীদের নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নে ‘ সম সুযোগ ‘ এর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। রাস্ট্রের অখন্ডতা বজায় রাখতে তিন পার্বত্য জেলা জেলা পরিষদে চাকমা সম্প্রদায়ের  একক আধিপত্য ভেঙে  মারমা, ত্রিপুরাসহ সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্য প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যালেন্স করা জরুরি। 

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি সশস্ত্র বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ২০১৮’র পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, এই দাবি উপেক্ষিত হলে ২০১৮ সালের মতো ভয়াবহ ও অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা সমতলের যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন এবং এখানে নির্বাচন মানেই একটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে খাগড়াছড়ি জেলাকে ঘিরে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই জেলার পাহাড়ি অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন এলেই অস্থিরতা, ভয়ভীতি এবং সংঘবদ্ধ অনিয়মের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। নির্বাচনী পরিবেশকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে, যা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহিত করে। তবে বাঙালিদের সাথে  মারমা জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবার পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং জেলা পরিষদে সশস্ত্র গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রভাব বজায় থাকলে এ অঞ্চলের পরিস্থিতি জটিল করে তোলবে । 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে  সহিংসতা হঠাৎ ঘটে না, বরং তা সংগঠিত ও পরিকল্পিত। বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।  এই পরিস্থিতিতে কেবল পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর উপস্থিতি অনেক সময় প্রতীকী হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান, শক্ত এবং সিদ্ধান্তমূলক উপস্থিতি থাকলেই কেবল এই ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা  প্রতিরোধ করা সম্ভব।

পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রশাসনে নেতৃত্ব নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি সরাসরি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলো জেলা পরিষদকে ( উন্নয়ন বরাদ্দ)  নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। নিজেদের অনুগতদের ( চাকমা) চেয়ারে বসিয়ে  প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। এতে পাহাড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদের একটি সমান্তরাল শক্ত কাঠামো তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষ প্রতিবেদন/ইউএনএন

আরো পড়ুন

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা

নিউজ ডেস্ক :: তথ্যপ্রযুক্তি ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২...

Read more
বাজেট, সীমান্ত হত্যা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক :: প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী জোটের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে...

Read more
‘একটাও সামনে আবি না, মাইরা ফেলামু’—যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশকে হুমকি

গাজীপুর প্রতিনিধি :: ‘ওই, একটাও সামনে আসবি না। একটাও সামনে আসবি না। মাইরা ফালামু, মাইরা ফালামু। একটাও সামনে আসবি না।’—পুলিশের...

Read more
তেল নিয়ে সিন্ডিকেট, টিকে গ্রুপের ৫০০ কোটি মুনাফা, ৩২ কোটি জরিমানা

বিশেষ প্রতিনিধি ::: তেলের বাজার অস্থিতিশীল করে মাত্র দুই মাসে ভোজ্যতেলের সিন্ডিকেট করে ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে টিকে...

Read more
‌‘মালয়েশিয়ায় দক্ষ জনশক্তি পাঠানো নিশ্চিত করতেই প্রধানমন্ত্রীর সফর’

নিজস্ব প্রতিবেদক :: মালয়েশিয়ায় দক্ষ জনশক্তি পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটিতে সফর করছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও...

Read more
Scroll to Top