নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ সাদমান। বৈষম্য বিরোধী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী যুবলীগ নেতা সাদমানের কাছ থেকে ফুল নিচ্ছেন এমন ছবি নিয়ে চলছে নানা কানাঘুষা। কোতোয়ালি থানার মামলায় সাদমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ সাদমান সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুরের ছেলের ব্যবসায়ীক পার্টনার। ৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর কিছুদিন গা- ঢাকা দিলেও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেনকে ফুল দিয়ে। চকবাজার থানা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার মধ্যস্ততায় ফুল দিয়ে ক্লিন চিট নেবার পাঁয়তারা করছেন যুবলীগ নেতা সাদমান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৬ নং চকবাজার থেকে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়া ওই বিএনপি নেতা ‘বড় অংকের লেনদেন ‘ এর মাধ্যমে যুবলীগ নেতা বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাদমানকে ডাঃ শাহাদাত হোসেনের কাছাকাছি নিয়ে যান। ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেনকে। এই মুহুর্তের ছবির জন্য গুনতে হয়েছে দুই লাখ টাকা।
নথি অনুযায়ী, সাদমান নাসিমন ভবনস্থ বিএনপি’র পার্টি অফিস ভাঙচুর মামলার আসামি। এজাহারে তার নাম রয়েছে ৮৯ ক্রমিক নম্বরে। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় আরেকটি মামলা রয়েছে। জুলাই গণ অভ্যুত্থান চলাকালীন ফজলে রাব্বি হত্যা মামলার ( মামলা নাম্বার ২৬৪) এজাহারভুক্ত আসামী মোহাম্মদ সাদমান।
সংক্ষুব্ধ বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাদমান এর একটি ভয়েস রেকর্ড রয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রয়াত চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়াকে গালাগাল করার। সুত্রমতে, নগর যুবলীগ নেতা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে সহিংসতার ঘটনার অন্যতম হোতা আরশাদ আলম বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে সাদমানের। বাচ্চুর ব্যবসায়িক পার্টনার সাদমান।
চট্টোশ্বরী রোড়ে বসবাস করেন সাদমান (৩০)। তার বাবার নাম সিদ্দিক। চান্দগাঁও যুবলীগের সদস্য ছিলেন। পরিচয় পত্র অনুযায়ী তার ঠিকানা চান্দগাঁও থানাধীন সিএন্ডবি ফায়ার সার্ভিসের বিপরীতে ‘এস অ্যান্ড এস শপিং মল’।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেনের সাথে অনুষ্ঠানে গিয়ে মেয়রকে ফুল দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে হামলার মতো অপরাধের তালিকা থেকে নিজের নাম সরাতে চান সাদমান। সুত্রমতে, চকবাজারের এক বিএনপি নেতার সাথে আর্থিক চুক্তিতে মেয়রের অনুষ্ঠানে স্টেজে উঠার সুযোগ নেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নানা কানাঘুষা তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কোতোয়ালী থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক খালিদ হোসেন তন্ময় সাদমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার জন্য উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেন। নথি অনুযায়ী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খালিদ হোসেন তন্ময় ২০২৫ সালের ৩রা আগস্ট সাদমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চিঠি দেন।
এবিষয়ে, জানতে যুবলীগ নেতা সাদমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেন নি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকেও কোন বক্তব্য মেলেনি।




