নিজস্ব প্রতিবেদক ::
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় ছুরি ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই চক্রটি ছিনতাইয়ের পর ভুক্তভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভিসা কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও দুটি ছোরা জব্দ করা হয়েছে। আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল কবির। তিনি বলেন, রবিবার রাতে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আরমান (২৯), মো. ইরফান (২৪), মো. করিম পঞ্চ (২১), মো. রাকিব (১৯) ও গোলাম হোসেন (৩৮)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে মো. রিদোয়ান (২৫) তার ছোট ভাই রিফাতুল ইসলামকে (২১) নিয়ে কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেক থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বাকলিয়ার নতুন ব্রিজের দিকে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহ আমানত সেতুর উত্তর পাশে ব্রিজের শেষ মুখে পৌঁছালে আরমান, আরফান, করিমসহ অজ্ঞাতনামা একজন ছুরি নিয়ে তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে।
এ সময় ছিনতাইকারীরা রিদোয়ান ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে দুটি অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ ২ হাজার ১০০ টাকা, ব্যাংকের ভিসা কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে যায়। বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা ছুরি দিয়ে রিফাতুলের বাম পায়ের ঊরু ও বাম হাতের মধ্যম আঙুলে আঘাত করে। পরে ছিনতাইকারীরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়।পুলিশ জানায়, ছিনতাই করা জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভিসা কার্ড ব্যবহার করে পরদিন শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে রিদোয়ানের ইস্টার্ন ব্যাংকের হিসাব থেকে কৌশলে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা তুলে নেয় চক্রটি।
বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল কবির বলেন, রবিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহ আমানত সেতুর ওপর পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন কয়েকজন ছিনতাইকারীকে আটক করেছে—এমন খবর পেয়ে রিদোয়ান ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি আরমান, আরফান ও করিমকে শনাক্ত করেন।
তাদের কাছ থেকে দুটি ছোরা ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরমান, ইরফান ও করিম ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে এবং ছিনতাই করা দুটি মোবাইল রাকিব নামে একজনের কাছে বিক্রি করার কথা জানায়। পরে পুলিশ তাদের নিয়ে কোতোয়ালি থানার পুরনো রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আরমান জানায়, টাকা তোলার জন্য ছিনতাই করা মোবাইলের সিম, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভিসা কার্ড গোলাম হোসেন তাকে দিয়েছিল। পরে পুলিশ সদরঘাট থানার মাদারবাড়ী রেলগেট এলাকা থেকে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে গোলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভুক্তভোগীর ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রিদোয়ানের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ আগস্ট বাকলিয়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ও ৪১১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




