ধানের শীষের প্রার্থী কয়ছর আহমেদের নামে অপপ্রচার

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on print

বিশেষ প্রতিনিধি :::

নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর শান্তিগন্জ আসনে  বিএনপির প্রার্থী কয়ছর আহমেদ -এর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হয়েছে। কয়েকটি অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালে বিভ্রান্তিকর তথ্যে মনোনয়ন সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের সংবাদ করা হয়েছে।

মিরর নিউজ ও এশিয়া পোস্ট নামের দুটি অনলাইন পোর্টালে ‘ ৩ কোটিতে বিএনপির মনোনয়ন চুক্তি, ৬৫ লাখ টাকা লেনদেনের প্রমাণ ‘ শিরোনামে একই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে – যা সিলেটের নামসর্বস্ব আঞ্চলিক পোর্টালে পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে। মিরর নিউজ নামের পোর্টালে সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক কিংবা বার্তা বিভাগে সম্পৃক্ত কোন সংবাদকর্মীর নাম উল্লেখ নেই। এই পোর্টালে গিয়ে এসব পদ শুন্য দেখা গেছে । ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের কাছেও এই পোর্টাল সম্পর্কে কোন তথ্য নেই। 

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনে, বিশেষ করে জাতীয়  নির্বাচনের সময়, ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভুল তথ্য নির্বাচন সম্পর্কে মিথ্যা গুজব এবং ভুল ধারণার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, অন্যদিকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য ছড়িয়ে দেওয়া বার্তা হতে পারে।

নির্বাচনে অপতথ্য বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো স্বাভাবিক একটি বিষয় হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য নিয়ন্ত্রণ  সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড়ো চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে আমরা ইন্টারনেটের গতি কমাতে বা গোপন ব্যবস্থা নিতে চাই না। পরিবর্তে, আমরা মেটাকে অবমাননাকর মন্তব্য, আপত্তিকর বিষয়বস্তু এবং ভুল তথ্য সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করেছি। ‘

রাজশাহীর এক ব্যক্তিকে তিন কোটি টাকার চুক্তিতে পাইয়ে দেবার শর্তে ৬৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা বিশ্বস্ত কোন সুত্র ছাড়াই এমন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। একারণে ভোটের মাঠে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে চমকপ্রদ অভিযোগের মোড়কে  ভিত্তিহীন অপপ্রচার  হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই যুগ ধরে যুক্তরাজ্যে বিএনপির রাজনীতি করলেও তৃণমূল থেকে উঠে আসা কর্মী কয়ছর আহমেদ। যে আসনে তিনি বিএনপির হয়ে লড়ছেন সেই উপজেলা ছাত্রদল দিয়ে তিন দশক আগে তার রাজনীতিতে অভিষেক। সুনামগঞ্জ -৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ তিন মেয়াদে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলা  ছাত্রদলের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে  আন্দোলন সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন। মনোনয়ন সংক্রান্ত  অপপ্রচার চালিয়ে  এই জায়গায় আঘাত করা হয়েছে। 

একাধিক নামসর্বস্ব অনিবন্ধিত  অনলাইন নিউজ পোর্টালে  তার ছবি ও নাম ব্যবহার করে মনগড়  মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। কয়ছর আহমেদের অনুসারীরা বলছেন,   সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনিবন্ধিত  অনলাইন পোর্টালে  টাকার বিনিময়ে মিথ্যা খবর প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে একটি গোষ্ঠী। তারা এমন অপসংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য  সাবেক সাধারণ সম্পাদক  কয়ছর আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার করা হচ্ছে তা অসত্য ভিত্তিহীন। এসব কিছুতে আমি ও আমার দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দুইজন ব্যক্তির আলাপচারিতাকে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে আমার নাম জড়িয়ে প্রচার করে ফায়দা নিতে চায় একটি অসৎ চক্র।সংবাদের তথ্য ও উপস্থাপনের ধরণ দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে এটি একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র। আমার ভোটার ও সমর্থকদের বিভ্রান্ত করতে সম্পুর্ন মিথ্যাচার করা হচ্ছে। ‘

সুনামগঞ্জ -৩ সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ বলেন, ধানের শীষের জোয়ার দেখে পরাজয়ের ভয়ে কতিপয় সংঘবদ্ধ চক্র আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনবরত মানহানি করছেন। রাজনীতি হচ্ছে আদর্শিক ভাষা। ভোটের মাঠে প্রতিযোগিতা থাকবে তাই বলে পরাজয়ের ভয়ে প্রতিহিংসা,  কুৎসা রটনা সমুচিত নয়।আমি জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জের ভোটারদের এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। মিথ্যা সংবাদ প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোর্টালের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের জন্য মানহানীর মামলা করবো। ‘

আরো পড়ুন

No Content Available
Scroll to Top