নিজস্ব প্রতিবেদক ::
গণপূর্তের গুলশান জোনে উপ সহকারী প্রকৌশলী ( সিভিল) হিসেবে পদায়িত হওয়া নিমিতোষ ওজা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাসভবন, রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে অবস্থিত হবার কারণে সামনে এসেছে প্রকৌশলী নিমিতোষ ওজার রাজনৈতিক অতীত ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গণপূর্তের এই প্রকৌশলীর বাড়ি গোপালগঞ্জে। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের তদারকিতে গণপূর্তের উপ বিভাগ -১ সম্পৃক্ত । এ কারণেই এমন সংবেদনশীল স্থানে নিমিতোষ ওজার পদায়ন নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন অভিযোগ উঠার পর প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও রাজনৈতিক কার্যালয় গণপূর্তের এই জোনের আওতাভুক্ত হলেও সবখানে জরুরি পরিসেবায় জড়িত ব্যক্তিদের কড়া ‘ সিকিউরিটি চেক ‘ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের মতে, ঝুঁকি ইস্যু বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা বলয় অত্যন্ত কড়া। প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সিকিউরিটির শৈথিল্যের সুযোগ রাখা হয় না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গণপূর্তের রক্ষণাবেক্ষণ উপ-বিভাগ-২ (শাখা-১) দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে নিমিতোষ ওজা নামের এক উপ সহকারী প্রকৌশলীকে ; যিনি ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে পড়াশুনার সময়ে ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।
গণপূর্তের গুলশান জোনের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। উপ বিভাগ ২ এর অধীনো শাখা -১ এর আওতাধীন এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সপরিবারে থাকেন। একই জোনে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ও। জানা যায়, ঢাকা গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ উপ-বিভাগ-২ (শাখা-১) এ কর্মরতরা প্রত্যক্ষভাবে এই এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম তদারকি করে থাকেন
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন জোনের অধিনে থাকার কারণে পদায়িত হওয়া নিমিতোষ ওজার রাজনৈতিক অতীত ও বাড়ির বিষয় সামনে এসেছে । ছাত্রলীগের সাবেক পোস্টেড নেতা প্রকৌশলী নিমিতোষ ওঝাকে কেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা চলছে।
অভিযোগ, গোপালগঞ্জে সাবেক ছাত্রলীগের নেতা কর্মজীবনে বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনে সক্রিয় ছিলেন।
নিমিতোষ ওজার ফেসবুক একাউন্ট পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। আওয়ামী রীগ আমলে তার দেয়া বিভিন্ন স্টাটাস সন্দেহ তৈরি করেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার রাজনৈতিক প্রচার নিয়ে প্রশ্ন বিএনপি নেতাকর্মীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাকরিজীবনের বেশিরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন ফরিদপুর গণপূর্ত কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনকে কেপিআই ঘোষণা দেবার দেড় মাসের মাথায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে ফরিদপুর থেকে ঢাকায় পদায়ন করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় বিএনপি সমর্থকদের। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।
যদিও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন লটারির মাধ্যমে প্রকৌশলীদের পদায়ন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় নেয়া হয় নি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য জায়গায় পদায়ন করার চেষ্টা চলছে।
সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় ‘গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে, আগস্টে ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে এবং গত ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছিলো। এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৩০ জনকে লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হয়েছে।’
জানা যায় , আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা কট্টরপন্থী আওয়ামীপন্থী প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়নের বিরোধিতা করে আসছিলেন জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীরা (এ্যাব)।
জাতীয়তাবাদী ভাধধারার কয়েকজন প্রকৌশলী জানান, দেশে অরাজকতা সৃষ্টিতে সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যবহার করা হতে পারে। ওয়াসা, বিদ্যুৎ গণপূর্তের মতো যেসব দপ্তর গুলশানে জরুরি সেবার সাথে সম্পৃক্ত সেখানকার প্রকৌশলী থেকে শুরু করে সাইট সহকারী; সবার তথ্য বিশ্লেষণ করে পদায়ন করা জরুরি। ‘
প্রসঙ্গত, সামরে ডিসেম্বরে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার ঘোষণা অস্থিরতা তৈরি করেছে । প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাসভবন, রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে অবস্থিত হবার কারণে নাশকতার জন্য গুলশানের মতো সংবেদনশীল এলাকাকে টার্গেট করা হতে পারে।
এরআগে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে তোলপাড় হয় সারাদেশে। ঘটনার পরপর জোনের উর্ধতন কর্মকর্তাসহ তিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছিলো। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংলগ্ন এলাকা থেকে ভিক্ষুকের বেশভূষায় কয়েকজনকে আটকও করা হয়।




