নিজস্ব প্রতিবেদক :::
ইসিবি চত্ত্বরের একটি ভবনে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় চাঁদা দাবি নাকি অন্যকিছু সেটি খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা। শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের একটি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। সালমান মুক্তাদির এই ঘটনাকে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
পুলিশের দাবি, চাঁদাবাজির কারণে নয়, পাশের জমির মালিকের সঙ্গে নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের ভাষ্য, সালমানের স্টুডিও হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল না। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, জুলাই আন্দোলনের সময় সালমান মুক্তাদিরের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তার সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জুলাইযোদ্ধা মীর স্নিগ্ধ। তিনি বলেছেন, বিষয়টি শুধু চাঁদার ইস্যু নয়, বরং সামনে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার এখনো মনে আছে, জুলাইতে ইন্টারনেট আসার পর যখন আমি মুগ্ধর পানি দেওয়ার ভিডিওটা ফেসবুকে পাবলিশ করে ওর সাথে হওয়া অন্যায়ের বিচার চাই, তখন পরিচিত সেলিব্রিটিদের মধ্যে সবার আগে সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদির ভাই শেয়ার করে।’
সালমান মুক্তাদির ঘটনার পরপর ফেসবুক লাইভে চাঁদাবাজির অভিযোগ করলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে ঘটনার সাথে স্থানীয় ভূমি দস্যু নাজিম উদ্দীন ভুঁইয়ার লোকজনই জড়িত। ভবনের জমির মালিকানা নিয়ে নাজিম উদ্দীনের সাথে ঝামেলা রয়েছে নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিমের।
রোববার ঘটনাস্থলে ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।’
তার দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে পড়ে স্টুডিওটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে একদল লোক এসে সেখানে ভাঙচুর শুরু করে। খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করা হয়।
তবে সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি এর আগে দাবি করেছিলেন, চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। হামলার পর প্রকাশ করা ভিডিওতে তিনি জানান, স্টুডিওর বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট ও লুট করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার সাথে জড়িতরা নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক জামাত কর্মী নাজিমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
গতকালের ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী?
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইপিবি চত্বর এলাকার চিহিৃত ভূমি দস্যু নাজিম উদ্দীন ভুঁইয়া দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নাজিমুদ্দিন ভূঁইয়া। বর্তমানে জামাতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।
স্থানীয় খায়ের ভুইয়া জানান, ‘ কালকে মিরপুরের সালমান মুক্তাদির সহ ঘটনার অন্তরালে অনেক কিছু আছে। সালমানের স্টুডিও যার প্রোপার্টি তিনি অন্যকেউ নয় জুলাই আন্দোলনের মামলায় জেল খাটা নাজিমুদ্দিন ভূইয়া ওরফে আরজু। ‘
তবে এই বক্তব্যেন পর সত্যতার নিরেপক্ষ দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করা যায় নি।
সুত্রমতে, বর্তমানে জামাতে ইসলামির রাজনীতির সাথে জড়িত এই আরজু আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সম্পর্ক রেখে কয়েক বছরে হয়েছে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী থেকে হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক, যা অধিকাংশ জবরদখল করে নেওয়া।
সুত্রমতে, নিউগিনি প্রোপ্রার্টিজের পাশের জমিতে সাবেক কিছু সরকারি কর্মকর্তার ২৩ কাঠা জমি রয়েছে, যার মধ্যে ৮ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধ।সেই ৮ কাঠা জমি নাজিমুদ্দিন আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে দখলে নেয়। যার কাছ থেকেই ৫০০০ স্কয়ার ফিটের জায়গা ভাড়া নিয়ে স্টুডিও করে সালমান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাজিমুদ্দিন এই জমির চারপাশে এমভাবে ৩টি গেইট বানায়েছেন যেন জমির মালিকরা সেই জমিতে ঢুকতে না পারে।
আরেকটি সুত্র জানিয়েছে, প্রবেশ পথ নিয়ে জটিলতায় সরকারি কর্মকর্তার রাগে ক্ষোভে লোক ভাড়া করে সেই গেইট ভাঙতে লোক পাঠায়। আর সেই ভাড়া করা লোকজন নাজিমুদ্দিনের সম্পদ মনে করেই সালমানের স্টুডিও ভাঙচুর করে।
ঘটনার পর সালমান কালকে রাতেই ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেন ‘ বিএনপির চাঁদাবাজরা তার কাছে চাঁদা চাইছে, না দেওয়ায় তার স্টুডিও ভেঙে ফেলছে। ‘
যদিও পরবর্তীতে সালমান চাঁদা তার কাছে চাই নি বলে জানান গণমাধ্যমকে। ভবন মালিকের কাছে চাঁদা চাওয়ার কোন তথ্য গণমাধ্যমকে জানাতে পারেন নি সালমান মুক্তাদির।



