নিজস্ব প্রতিবেদক :::
নির্বাচন কমিশনে জামাত প্রার্থীর আপিলে মনোনয়ন বাতিল হবার পর প্রার্থীতা ফিরে পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। মঙ্গলবার হাইকোর্ট তার প্রার্থীতা ও প্রতীক ফেরত দিয়েছেন। মঙ্গলবার হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
প্রার্থীতা ও প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় নামলেন সরওয়ার আলমগীর। বললেন ‘আমাদের হাইকোর্টে রেখে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে একটি দল’।
বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী বলেন, আদালতে এ আদেশের ফলে সরওয়ার আলমগীরের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোন বাধা রইল না। আদালতে শুনানিতে সরওয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান।
এদিকে, প্রার্থীতা ও প্রতীক ফেরত পাওয়ার পরই ফটিকছড়িতে প্রচারণা শুরু করেন সরওয়ার আলমগীর।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চট্টগ্রাম-২ আসনে (ফটিকছড়ি) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের করা রিটের ওপর আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য্য রেখেছিলেন হাইকোর্ট, যা আদালতের মঙ্গলবার কার্যতালিকায় ৮৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
এরআগে, আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে ১৮ জানুয়ারি সরওয়ার আলমগীররের বিরুদ্ধে জামাত প্রার্থী নুরুল আমিনের আপিল প্রথম দফা নামঞ্জুর করেছিলো ইসি। কিন্তু ওইদিন বিকেল পাঁচটায় সরওয়ার আলমগীরের মালিকানাধীন এএনএফজেড টেরি টেক্সটাইলের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিজিং এন্ড ফাইনান্স লিমিটেডের একটি স্থিতিআদেশ জমা দেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামাত প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে ফটিকছড়ি আসনের বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছিলো ।
ইসির ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে সরওয়ার আলমগীর ২০ শে জানুয়ারি মনোনয়ন ফেরত চেয়ে রিটটি করেন।
বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে নির্বাচনের মাঠের বাইরে রাখতে জামাত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল আমিন ছয়টি সিভিল পিটিশন দায়ের করেন। ২২ শে জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজের সর্বশেষ আদেশে বলা হয় চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে আর ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা হবে না।
আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেডের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছিলেন।
তবে কোন কিছুতেই হারতে নারাজ অধ্যাপক নুরুল আমিন। তিনি সরওয়ার আলমগীরকে ঋন খেলাপী প্রমাণ করতে ক্রমাগত সিভিল পিটিশন দায়ের করেন। সরওয়ার আলমগীরের সিআইবি যথার্থ থাকা শর্তেও আদালতে একের পর এক সিভিল পিটিশন দাখিল করেন। এমনকি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর চট্টগ্রামের জেলার প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি গণমাধ্যমে নিউজ করান। হাইকোর্টের বিচারকদের স্বাক্ষরিত অনুলিপি ছাড়া কেন প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বিএনপির প্রার্থীকে।
দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে কড়া ভিন্নমত সাবেক বিচারপতি ব্যারিস্টার ফয়সাল ফায়েজীর। আদালতের সার্টিফাইড কপি ছাড়া আইনজীবীর সার্টিফিকেটকে সত্য হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে আপিলেট ডিভিশনের রুল আছে জানিয়ে সাবেক বিচারপতি ফয়সাল ফায়েজী বলেন, আদেশের অনলাইন কপি ও আইনজীবীর সার্টিফিকেট দিলে নির্বাচনের সময় প্রতীক হস্তান্তরে কোন আইনী বাঁধা নেই। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সেই ক্ষমতা আরপিওতে দেয়া আছে। সংবাদ তৈরি করাই যায়, তবে আইনী বৈধতা ভিন্ন জিনিস। ‘
যদিও সরোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি নন বলে ঘোষণার বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের ওপর আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হলে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ সুগম হয় । চেম্বার জজ তার আগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করায় হাইকোর্টের ওই রায় কার্যকর রাখে। প্রিমিয়ার লিজিংয়ের সঙ্গে সরোয়ার আলমগীরের ঋণ পুনঃতফসিলের বিষয় নিয়ে তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে রিট শুনানিতে যমুনা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সরওয়ার আলমগীরের খেলাপি ঋন রয়েছে মর্মে অভিযোগ উত্থাপন করেন জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবীরা।
আদেশের পর সারোয়ার আলমগীরের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘মনোনয়ন বাতিলের ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্ট সারোয়ার আলমগীরকে দলীয় প্রতীক (ধানের শীষ) বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে তাঁর নির্বাচনে অংশ নিতে আইনগত বাধা নেই।’
এদিকে, প্রার্থীতা ও প্রতীক ফেরত পাওয়ার পরই ফটিকছড়িতে প্রচারণা শুরু করেন সরওয়ার আলমগীর।
তিনি হেঁয়াখো বাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাটের বিভিন্ন এলকায় প্রচারণা চালান।
এসময় তিনি বলেন, আমাদের হাইকোর্টে রেখে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে একটি দল। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হবে না। ফটিকছড়ির মানুষ তাদের স্বপ্ন পূরণ হতে দেবে না। কারণ ফটিকছড়ি ধানের শীষের ঘাঁটি। তারা ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করবে।
তিনি বলেন, একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করছে। এটা শিরক। কোন মানুষ এটা বলতে পারে না।
তিনি বলেন, ধানের শীষে ভোট দিতে ফটিকছড়িবাসি উম্মুখ হয়ে আছে। ১২ তারিখ তার প্রমাণ মিলবে।
বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর বলেন, সত্যের জয় অবশ্যাম্ভবি। সেটা আবারও প্রমাণিত হল। একটি গোষ্টি আমাকে নির্বাচন থেকে দুরে সরিয়ে রাখতে নানাভাবে চেষ্টা করেছে কিন্তু তারা সফল হয়নি। মাননীয় আদালতে ন্যায় বিচার পেয়েছি। ফটিকছড়িবাসি আমার সাথে আছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রকিবুল আলম চৌধুরী পিটু, আবু মেম্বার, আবুল খায়ের, শফিউল আজম, একরামুল হক প্রমুখ




